সাহিত্য সম্রাট প্রণাম
বিগত ৩৪ বছর এবং শেষ ১৫ বছরে হিন্দুত্ব বিরোধী সরকার এবং তার শাসন কাঠামো সবচেয়ে বেশি উপেক্ষা করেছে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে। বঙ্কিমচন্দ্রের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে তুলনা করে এমন এক নেতিবাচক আলোচনার পরিসর তুলে ধরা হয়েছে, যা বাঙালির সম্মানকে কলুষিত করেছে। যদিও ব্রিটিশ পরাধীন ভারতে দুই সাহিত্যের সাহিত্য সত্ত্বা সম্পূর্ণ আলাদা প্রেক্ষিত। দুই সময়ের ব্যবধানও অনেক। বাঘ আর সিংহের গর্জন নিয়ে তুলনা মুর্খতার পরিচয়। তথাকথিত সেকুলার সাহিত্য সমালোচকরা তাই করেন।
বঙ্গের ইতিহাস নিয়ে মূল সূত্রগুলো নিজেদের প্রবন্ধে বুননে অমর হয়ে আছেন। বঙ্কিমচন্দ্রের সাফ কথা ১৭ জন অশ্বারোহী যবন কখনই বঙ্গ বিজয় করতে পারেননি। তখনও বর্ধমান, বিষ্ণুপুর, গৌড়ে হিন্দু জমিদার রাজারা রাজত্বে অবিচল ছিলেন। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী শুনে রাখুন রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং তাঁর গানে সুর দিয়ে ছিলেন তৎকালীন টাউন হলে। বঙ্কিমচন্দ্রকে আপনি আর আপনার দল কোনদিন সম্মানদেননি।
১৮৯ তম জন্মদিনে বঙ্কিমচন্দ্রের বড় কৃতিত্ব বন্দে মাতরম্ গানের সার্ধশত বর্ষ। আনন্দমঠ কী? মা যাহা ছিলেন, মা যাহা হইয়াছেন আর মা যাহা হইবেন- এই কথাই ভারতবর্ষের আত্মা। নৃমুণ্ড মালিনী দেবী কালীকা, দেবী জগদ্ধাত্রী এবং মা দুর্গাই হলেন বাঙালি ও ভারতবর্ষের পরম্পরা, ঐতিহ্য, ইতিহাস আর সংস্কৃতি। এই প্রজ্জ্বলিত জ্ঞানময় প্রদীপকে স্বাধীন ভারতবর্ষে বাম কংগ্রেস চাপা দিয়ে রেখেছিল। বন্দে মাতরম্ গানের তথাকথিত শরিয়া বিধিমালার দৃষ্টিকোণে তোষণের ভাবনায় দ্বিখণ্ডিত করে রেখেছিল। পাঠ্যপুস্তকে বঙ্কিমচন্দ্রকে হিন্দুত্বের তকমা দিয়ে বিকল্প পাঠ্যক্রমে ফেলে রাখা হয়েছিল। মুসলিম ভোট পেতেই বঙ্কিমচন্দ্রের গানকে উপেক্ষা করা হয়। প্রচারের আলোয় নিয়ে আসা হয়নি।
পশ্চিমবঙ্গের যেখানে যেখানে বাংলা সাহিত্যে পড়ানো হয় সেখানে সেখানে গত ৭৯ বছরে বঙ্কিমচন্দ্রের জাতীয়তাবাদকে ছোট করে পড়ানোর গভীর ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। নৈহাটির কাঁঠাল পাড়াকে কলকাতায় আনা হয়নি। তার উপন্যাস, প্রবন্ধের বিকৃত ব্যাখ্যা করে ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে দেওয়ার অপচেষ্টা করা হয়েছে। বন্দে মাতরম্ গান আর বঙ্কিমচন্দ্রকে নিয়ে আরো সদর্থক গবেষণা করা উচিত।
বঙ্কিমচন্দ্র ছাড়া মা ভবানীর কল্পনা অসম্ভব। বন্দে মাতরম্ ছাড়া ভারত পূর্ণ হবে না। বঙ্কিমচন্দ্রের কর্ম ভূমি বহরমপুর, আরামবাগ, নেগুয়া যেমন আমাদের সম্পদ ঠিক একই ভাবে কুষ্টিয়া, খুলনার পুন্যভূমিও আমাদের চাই। আর তা সম্পন্ন হলেই অরবিন্দের অখন্ড ভারত পুনর্নির্মাণ হবে।
বঙ্কিমচন্দ্রের "আমার দুর্গোৎসব" বাঙালির অমূল্য সম্পদ। সকলে আবার পড়ুন।
সুমন চন্দ্র দাস
২৬/০৬/২০২৬
#BankimChandraChattopadhyay #VandeMataram