আমাদের সনাতন ভারতবর্ষে প্রথাগত শিক্ষার ধারাটি সুপ্রাচীন। সেই গুরুশিষ্য পরম্পরা থেকে শিষ্যরা গুরু গৃহের পরিমণ্ডল রক্ষণাবেক্ষণ এর কাজে নিয়োজিত ছিলো। ধৌম্য ঋষির শিষ্য আরুনীর কথা আমরা সবাই জানি।আমাদের মাতৃভূমির হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার এর জন্য আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য অনেক।
আমরা বৃহত্তর দেশ ও সমাজের থেকে কোনদিনই দূরে বা বিচ্ছিন্ন থাকতে পারি না।সেকারণে বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি আমাদেরকে ক্যাম্পাস এর মধ্যে কিছু কাজকর্ম করতে হবে। এই কাজ গুলো আমাদের প্রতিষ্ঠান কে আরো বেশি করে সমাজের ও দেশের কাছাকাছি নিয়ে যাবে।আর আমাদের প্রাপ্তি হবে সুন্দর ও আদর্শ ব্যক্তিত্ব।
সবচেয়ে প্রথমে আমরা সমাজের যে অংশের বা যে আর্থ সামাজিক শ্রেনীরই প্রতিনিধিত্ব করি না কেনো, ক্যাম্পাস এ সবাই সমান।আমাদের বন্ধুরা যারা সামাজিক সমস্যায় ভুক্তভোগী তাদের কে এই ক্যাম্পাসে ভালবাসা, সম্মান দিয়ে তার ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করবো।এর পরে তার মধ্যে শক্তি ও সম্ভাবনা তৈরি করার চেষ্টা করবো।নিরন্তর চেষ্টা করে যেতে হবে, যাতে নিজেদের মধ্যে মতান্তর কে কোনও ভাবেই মনান্তর পর্যন্ত যেতে দেওয়া যাবে না।ক্যাম্পাস এর মধ্যে দলগত সংহতি খুবই প্রয়োজন।
আর হ্যাঁ, আমরা আমাদের শিক্ষক দের কেও এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিরপেক্ষ করে তুলতে পারি।
স্বাস্থ্য সম্মত জীবন যাপন ছাড়া সুস্থ সমাজ কোনো ভাবেই গঠন সম্ভব নয়। তাই যখনই সুযোগ পাবো স্বাস্থ্যসম্মত বিধি বিধান মেনে চলবো ।
আমাদের চারপাশের জায়গা গুলো সবসময় পরিষ্কার রাখবো। পানীয় জলের পরিশুদ্ধতা ও গুণমান নিয়ে সদা সচেতন থাকবো। সাধারণ রোগ অসুখের উপসর্গ গুলি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকবো। সংক্রামক রোগ অসুখ গুলি সম্পর্কে সজাগ থাকবো। যদি দেখি আমার এক বন্ধু জানে না তার শরীরে কিসের উপসর্গ আছে তাকে সেটা জানিয়ে, সেই উপসর্গের চিকিৎসা সম্পর্কে তথ্যাবলী সরবরাহ করতে হবে।আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যে স্বাস্থ্য পরিষেবা আছে জানতে হবে ও জানাতে হবে।
সুন্দর ও সুরক্ষিত পরিবেশই হলো গুণমান সম্পন্ন জীবনের আধার।আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে যে বোর্ড আছে তাতে পরিবেশ দূষণের মাত্রা দেখা যায়। আমরা নিজে থেকে এই মাত্রা কে নিয়ন্ত্রিত করার জন্য গাছ লাগাবো। সেই গাছে জল দেবো, পরিচর্যা করবো।আমাদের পরে যারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসবে তারা অনুপ্রেরণা পাবে তাদের দাদা দিদি দের উপহার দেখে।পাশাপাশি এই ক্যাম্পাসের মধ্যে যে অবলা প্রাণী গুলো থাকে তাদেরও যত্ন করবো। এই অসহ্য গরমে একটি পাত্রে যদি জল দেওয়া যায় কত প্রাণ যে তৃষ্ণা থেকে মুক্তি পাবে তার হিসেবই বা কার কাছে আছে?
সর্বোপরি আমাদের শ্রেণীকক্ষের বেঞ্চ, টেবিল, বোর্ড ও অন্যান্য সামগ্রী সমূহ, বিভাগের সমস্ত কাঠামোগত জিনিসপত্র ও অবশ্যই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিটি ব্যবহারযোগ্য বস্তু সকল কে সুরক্ষিত রাখার কাজটিও আমরাই করতে পারি।
এতক্ষণ ধরে যে কথা গুলো আমি সবার সামনে তুলে ধরলাম তার সঠিক ও সময়োপযোগী অভ্যাস ও মূল্যায়ন আমাদের কে একটি খুব ভালো সময় উপহার দেবে।আর এই অভিজ্ঞতা আমরা ছড়িয়ে দেবো প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিষ্ঠানে,সমাজ থেকে সমাজে এবং উজ্জ্বল করবো দেশের মুখ।
কলমে... ড. সুদীপ ভূঁই