বিদ্যালয় থেকে মাদ্রাসা—‘বন্দে মাতরম্’-এর অভিন্ন মর্যাদা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

Utank_Banerjee 27 September, 2026
বিদ্যালয় থেকে মাদ্রাসা—‘বন্দে মাতরম্’-এর অভিন্ন মর্যাদা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বিদ্যালয় হোক বা মাদ্রাসা, শিক্ষাঙ্গনের প্রথম পরিচয় হওয়া উচিত ভারতীয় নাগরিকত্বের অভিন্ন চেতনা। সেই জায়গা থেকেই পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত স্কুল ও স্বীকৃত মাদ্রাসায় বন্দে মাতরম্ গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত বন্দে মাতরম্ কেবল একটি গান নয়; ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে এটি ছিল এক শক্তিশালী প্রেরণার উৎস। বিশেষ করে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী স্বদেশি আন্দোলনে এই গান বাংলার পথঘাট থেকে আন্দোলনের মঞ্চ, সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল।

 

এই কারণেই বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় একই জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতীককে স্থান দেওয়ার পক্ষে একটি স্পষ্ট যুক্তি রয়েছে, শিক্ষার ধরন আলাদা হতে পারে, ধর্মীয় বিশ্বাস আলাদা হতে পারে, কিন্তু দেশের প্রতি নাগরিক দায়বদ্ধতা সকলের জন্য সমান। “নানা ভাষা, নানা মত, নানা পরিধান”, ভারতের শক্তি তার বৈচিত্র্যে; সেই বৈচিত্র্যের মাঝেই একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয় গড়ে ওঠে।

 

তবে এই সিদ্ধান্তের সমালোচকরাও আছেন। তাঁদের বক্তব্য, ধর্মীয় সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানে কোনও নির্দিষ্ট সাংস্কৃতিক অনুশীলন বাধ্যতামূলক করার ক্ষেত্রে ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্ন বিবেচনা করা জরুরি। অন্যদিকে সরকারের সমর্থকেরা বলছেন, বন্দে মাতরম্ কোনও বিশেষ ধর্মের আনুগত্যের পরীক্ষা নয়; এটি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার।

 

শেষ পর্যন্ত মূল প্রশ্নটি হওয়া উচিত বিভাজন নয়, অভিন্ন নাগরিক চেতনা। ছাত্র যেন নিজের ধর্ম পালন করতে পারে, নিজের সংস্কৃতি ধারণ করতে পারে, এবং একই সঙ্গে উপলব্ধি করে, তার বৃহত্তর পরিচয় ভারতবর্ষের নাগরিক হিসেবে।

দেশকে ভালোবাসা কোনও সম্প্রদায়ের একার অধিকার নয়; এটি সকল ভারতীয়ের সম্মিলিত উত্তরাধিকার।

 

লেখক: উতঙ্ক ব্যানার্জি (Utank Banerjee)

← হোম পেজে ফিরে যান