যখন ছাত্র আন্দোলন মূল লক্ষ্য থেকে সরে যায়: CJP আন্দোলনের উদ্বেগজনক দিক।

ABVP 20 July, 2026
যখন ছাত্র আন্দোলন মূল লক্ষ্য থেকে সরে যায়: CJP আন্দোলনের উদ্বেগজনক দিক।

NEET-UG প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের ক্ষোভ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও ন্যায্য। লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী বছরের পর বছর প্রস্তুতি নেয়, বিপুল অর্থ খরচ করে এবং তাদের পরিবারের আশা-ভরসা এই পরীক্ষার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে। তাই পরীক্ষার স্বচ্ছতা নষ্ট হলে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রশাসনিক সংস্কার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। CJP-র আন্দোলনও প্রথমে প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহির দাবিকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছিল।

কিন্তু একটি ন্যায্য ছাত্র আন্দোলনের মঞ্চে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক রাজনৈতিক ও আদর্শগত বিষয়কে জায়গা দেওয়ার জন্য Cockroach Janta Party বা CJP-র নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা হওয়া উচিত। আন্দোলনস্থল থেকে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে ৩৭০ অনুচ্ছেদ, কাশ্মীর এবং “ব্রাহ্মণবাদ থেকে আজাদি”-র মতো স্লোগান শোনা গেছে। এসব বিষয়ের সঙ্গে NEET প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো সম্পর্ক নেই।

এই বক্তব্যগুলি CJP-র সরকারি অবস্থান হোক বা কয়েকজন ব্যক্তির নিজস্ব বক্তব্য—আয়োজকদের দায়িত্ব ছিল সঙ্গে সঙ্গে তা বন্ধ করা এবং প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করা। সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু ভারতের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা বা কাশ্মীরের ভারতের অংশ হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা কোনোভাবেই ছাত্রস্বার্থের আড়ালে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কিছু উগ্র ও বিচ্ছিন্নতাবাদী মানসিকতার ব্যক্তি যখন আন্দোলনের মঞ্চ দখল করে নেয়, তখন সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের প্রকৃত সমস্যা আড়ালে চলে যায় এবং আন্দোলন অন্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে শুরু করে।

সোনম ওয়াংচুককে আন্দোলনস্থল থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটিকেও আবেগ বা রাজনৈতিক প্রচারের বদলে সংবিধান এবং চিকিৎসার প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিচার করা উচিত। দীর্ঘদিন অনশন করার ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছিল। তাঁর শরীরে শর্করা, সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিকের নিচে নেমে গিয়েছিল বলে জানা যায়, যা জীবনহানির কারণ হতে পারত। তাই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াকে “অপহরণ” বলে প্রচার করা যুক্তিযুক্ত নয়।

সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ প্রত্যেক ব্যক্তির জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার রক্ষা করে। তবে এই অধিকার নিজের জীবন শেষ করার অবাধ অধিকার দেয় না। Gian Kaur v. State of Punjab মামলায় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে বলেছিল যে, জীবনের অধিকারের মধ্যে অস্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করার সাধারণ অধিকার অন্তর্ভুক্ত নয়। পরে মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুর যে সীমিত অধিকার স্বীকৃত হয়েছে, তা মূলত শেষ পর্যায়ের রোগী এবং কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত চিকিৎসা-সংক্রান্ত পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত। রাজনৈতিক অনশনকে সেই অধিকারের সঙ্গে এক করে দেখা যায় না।

সরকার সময়মতো সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে আলোচনা না করার জন্য অবশ্যই সমালোচিত হতে পারে। কিন্তু যখন তাঁর জীবন বিপদের মুখে পড়ে, তখন তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া মানবিক এবং আইনসম্মত পদক্ষেপ। কোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অর্থ এই নয় যে, একজন আন্দোলনকারী নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে গেলেও রাষ্ট্র নীরব দর্শক হয়ে থাকবে।

এই ক্ষেত্রে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ বা ABVP-র ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ABVP বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষায় দুর্নীতি, পরীক্ষা মাফিয়া এবং (National Testing Agency)NTA-র ব্যর্থতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে। প্রয়োজন হলে তারা সরকারের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছে এবং পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, কঠোর নিরাপত্তা ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে। ছাত্রস্বার্থের প্রশ্নে ABVP-র এই ধারাবাহিক অবস্থান প্রশংসার যোগ্য।

ভারতের ছাত্রছাত্রীরা স্বচ্ছ পরীক্ষা, ন্যায়বিচার এবং জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অধিকার রাখে। তাদের প্রকৃত সমস্যাকে ব্যবহার করে বিচ্ছিন্নতাবাদী বা অপ্রাসঙ্গিক রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রচার করা উচিত নয়। একটি আন্দোলন তখনই বিশ্বাসযোগ্য থাকে, যখন তার নেতৃত্ব, বক্তব্য এবং কর্মপদ্ধতি মূল দাবির প্রতি সৎ ও দায়বদ্ধ থাকে।

কলমে: উতঙ্ক ব্যানার্জী 

← হোম পেজে ফিরে যান