শিক্ষার জাহাজের হাল এবার প্রহ্লাদ যোশীর দৃঢ় হাতে

ABVP 26 July, 2026
শিক্ষার জাহাজের হাল এবার প্রহ্লাদ যোশীর দৃঢ় হাতে

ভারতের শিক্ষা মন্ত্রকের নতুন দায়িত্ব পেলেন প্রহ্লাদ যোশী। ২৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ গ্রহণ করার পর, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে যোশীকে তাঁর বর্তমান মন্ত্রকগুলির পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রকের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই দায়িত্ব এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দেশের ছাত্রসমাজ পরীক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা, প্রশ্নপত্র ফাঁস, নিয়োগে অনিয়ম এবং শিক্ষা-প্রশাসনের জবাবদিহি নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছে।

প্রহ্লাদ যোশীর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক জীবনের ভিত্তি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের আদর্শ ও প্রশিক্ষণের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। অল্প বয়স থেকেই সংঘের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ, প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশগ্রহণ এবং দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা তাঁকে শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা, কর্তব্যবোধ ও রাষ্ট্রকে সর্বাগ্রে রাখার মানসিকতা দিয়েছে। আরএসএস কেবল একটি সংগঠন নয়; ব্যক্তি নির্মাণ, চরিত্র গঠন, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং জাতীয় ঐক্যের শিক্ষা তার কাজের মূল ভিত্তি। সেই পরিবেশে গড়ে ওঠা যোশীর কাছ থেকে তাই শিক্ষা মন্ত্রকেও দৃঢ়, সংযত ও লক্ষ্যভিত্তিক নেতৃত্ব প্রত্যাশিত।

ধারওয়াড় থেকে টানা পাঁচবার লোকসভায় নির্বাচিত হওয়া তাঁর জনভিত্তি ও রাজনৈতিক স্থায়িত্বের প্রমাণ। তিনি আগে সংসদীয় বিষয়ক, কয়লা ও খনি মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলেছেন; বর্তমানে খাদ্য ও গণবণ্টন, উপভোক্তা বিষয়ক এবং নতুন ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি মন্ত্রকের দায়িত্বও পালন করছেন। সংসদ পরিচালনা থেকে জটিল প্রশাসনিক ক্ষেত্র—বিভিন্ন দায়িত্বে তাঁর অভিজ্ঞতা তাঁকে শিক্ষা মন্ত্রকের মতো বিস্তৃত ও সংবেদনশীল বিভাগ পরিচালনায় বিশেষভাবে সহায়তা করবে।

শিক্ষা মন্ত্রক অবশ্য শুধু পরীক্ষা পরিচালনার দপ্তর নয়। জাতীয় শিক্ষানীতির বাস্তবায়ন, মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, উচ্চশিক্ষায় গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান রক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। যোশীর কাছে প্রত্যাশা থাকবে, তিনি ভারতীয় জ্ঞান-ঐতিহ্য ও আধুনিক বিজ্ঞানকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী না করে পরিপূরক শক্তি হিসেবে দেখবেন। পাঠ্যক্রমে দেশের ইতিহাস, সভ্যতা ও সাংবিধানিক মূল্যবোধের যথাযথ স্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষাঙ্গনে মেধা, মুক্ত চিন্তা এবং গবেষণার স্বাধীনতাও সুরক্ষিত করবেন।

এখন তাঁর প্রথম কর্তব্য হওয়া উচিত প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করা। কেবল অপরাধীকে গ্রেপ্তার করলেই চলবে না; পরীক্ষার প্রশ্ন তৈরি, মুদ্রণ, পরিবহণ, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনার প্রতিটি স্তরে দায়িত্ব নির্দিষ্ট করতে হবে। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির উপর কঠোর নজরদারি, স্বাধীন প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক নিরীক্ষা, কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত জবাবদিহি এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির নির্দিষ্ট সময়সীমা চালু করা জরুরি। ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা ব্যবসা করে বা প্রশ্নপত্র ফাঁসের চক্র চালায়, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দেশবিরোধী প্রচার, বিচ্ছিন্নতাবাদী উসকানি বা সহিংস মৌলবাদের ক্ষেত্র হতে দেওয়া যাবে না। CJP-সহ যেকোনো আন্দোলনকারী গোষ্ঠী গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ করতে পারে, কিন্তু জাতীয় ঐক্য, সংবিধান ও সার্বভৌমত্বের সীমা অতিক্রম করার অধিকার কারও নেই। আর নিষিদ্ধ SIMI-র মতো সংগঠন বা তাদের মতাদর্শিক প্রভাবের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে।

প্রহ্লাদ যোশীর সামনে চ্যালেঞ্জ বড়, কিন্তু তাঁর সাংগঠনিক শিক্ষা, দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং দৃঢ় মানসিকতা আশা জাগায়। দেশের ছাত্রসমাজ এখন বক্তৃতা নয়, ফল চায়—স্বচ্ছ পরীক্ষা, নিরাপদ ভবিষ্যৎ এবং জবাবদিহিমূলক শিক্ষা প্রশাসন। নতুন শিক্ষামন্ত্রীর কাছে প্রত্যাশা, তিনি সেই বিশ্বাস পুনর্গঠন করবেন এবং ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাকে শৃঙ্খলা, ন্যায় ও জাতীয় দায়বদ্ধতার পথে আরও শক্তিশালী করবেন।

কলমে: উতঙ্ক ব্যানার্জী 

← হোম পেজে ফিরে যান